দুধবিক্রি শিকেয় , ফলশ্রুতি গো-মোষ প্রতিপালন এবং দুগ্ধ ব্যবসায় নেমে এসেছে বিশাল সংকট

22

করোনা মোকাবিলায় সরকারী নির্দেশিকা হেতু লক ডাউনের পরে গরু-মোষ সহ অবলা জীবদের বেঁচে থাকাই এখন বড় প্রশ্ন ।দুগ্ধ ব্যবসায় সংশয়ের মেঘ । সংকটে গো-মোষ প্রতিপালন ও দুগ্ধ শিল্প ।

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ঘোষপাড়া এলাকা কয়েক বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গরু মোষের বিস্তীর্ণ আবাদ । এখানে বেশ কিছু গো-মোষ প্রতিপালকের গরু মোষের খামার , যেখানে রয়েছে আড়াই থেকে তিন হাজার গরু ও মোষ । এখান থেকেই অন্তত পনেরো হাজার লিটার দুধ সরবরাহ হত জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি জেলা ছাড়িয়ে অন্যত্র ও শহর কলকাতায় । আজ সেই খামারমালিক দুগ্ধ ব্যবসায়ী ও গো-মোষ প্রতিপালকদের চোখে-মুখে চিন্তার ভাঁজ ।করোনা আতঙ্কে দুগ্ধ ব্যবসা ও গো-মোষ প্রতিপালন শিল্পে নেমে এসেছে সংকটের কালো মেঘ । কারণ দুধ যেমন বিক্রি হচ্ছে না তেমনই গরু ও মোষের খড় বিচুলির যোগান নেই পরিবহন বন্ধ থাকায় । জেরবার ব্যবসায়ীরা । গরু ও মোষের অস্তিত্ব সংকট এবং একইসাথে যুক্ত দুগ্ধ ব্যবসায়ীর জীবন জীবিকা সংকটে ।

লক ডাউনের পরে গোরু ও মোষ প্রতিপালকদের প্রতিনিয়ত চিন্তা আসন্ন সংকট থেকে তাঁরা বাঁচবেন কি করে । গরু মোষ গুলি না বাঁচলে তাঁরা ও যে বেঘোরে মারা পড়বেন । গরু বা মোষের দুধ মুলত যে জায়গায় সরবরাহ হত সেই মিষ্টির দোকানপাট বন্ধ । ডেয়ারি দুধ নিচ্ছে না ।মানুষ ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে দুধ কিনছে না । সর্বত্র সরবরাহ বন্ধ । খামার বা খাটাল মালিকদের আয়ের উৎস বন্ধ । সর্বোপরি বাইরের জেলা থেকে গরু মোষের খাদ্য খড় বিচুলি আসছে না । প্রাণ বাঁচানো দায় অবলা জীবদের ।গরু- মোষ সহ অবলা জীবরা কাতর হয়ে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । তাদের অবস্থা অন্য ব্যাপ্তি দিয়েছে সংকটকে । গরু-মোষ প্রতিপালকরা অনন্যোপায় । বাঁচার খড়কুটো যোগাড় করতে গণমাধ্যম মারফত তাঁদের কাতর আর্জি মুখ্যমন্ত্রীকে ।গরু-মোষ সহ অবলা জীবদের খাদ্যের যোগান অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়ে তাঁরা বলছেন গরু মোষ গুলি না বাঁচলে তাঁদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে । ‘ সরকার সহযোগিতার হাত না বাড়ালে গলায় দড়ি দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। অপর এক দুগ্ধ ব্যবসায়ী জানালেন যে কয়েক হাজার লিটার দুধ ড্রেনে ফেলে দিতে হচ্ছে । সবমিলিয়ে পরিস্থিতি যেদিকে গড়িয়ে চলেছে তার ফলে গো মেষ শিল্পে গভীর সংকট ঘনীভূত ।

LEAVE A REPLY

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে