বসনিয়ায় নিশিযাপন

168

পাহাড়ি রাস্তা। গাড়ি চলছে শামুকের গতিতে। এক পাশে জঙ্গল, অন্য দিকে পাহাড়। ঘুটঘুটে অন্ধকার। গাড়ির আলো সেই আঁধার ভেদ করতে পারে না। হার্ট অব ডার্কনেস ছুঁয়ে দেখার জন্য গাড়িটা থামাতে বললাম। তবে গুনে গুনে ৩০ সেকেন্ড। শহুরে‌ আলোয় অভ্যস্ত চোখ তার বেশি সহ্য করতে পারল না। গাড়িতে উঠে পড়লাম। তখনও সিপোভো গ্রামে পৌঁছতে বাকি ৭৫ কিলোমিটার।

ওই গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল না। আসলে আমাদের প্ল্যানে বসনিয়াই ছিল না। ক্রোয়েশিয়ায় ঘুরতে‌ এসেছিলাম চার বন্ধু। এখানকার একটি শহর থেকে অন্য শহরে যেতে মাঝের ৯ কিলোমিটার রাস্তা পড়ে বসনিয়ার অধীনে। জাগরেব (ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী) থেকে ডুবরোভনিক গাড়িতে গিয়েছিলাম, বসনিয়ার সীমানা পেরিয়ে। ফেরার পথে ভাবলাম, বসনিয়ার ভিতর দিয়ে গেলে কেমন হয়? ঘুরপথে বসনিয়ায় ঢুকতেই অভিবাসন দফতরের অফিসাররা জানালেন, গাড়ি রেখে যেতে হবে। গাড়ির ইনশিয়োরেন্স শুধু ক্রোয়েশিয়ায় বৈধ। লাগেজ নিয়ে ওখানে পৌঁছব কী করে? ‘‘হিচ হাইকিং,’’ উপায় বললেন অফিসার।

অন্যের গাড়িতে লিফ্‌ট চেয়ে চেয়ে যাওয়াকে বলে হিচ হাইকিং। হলিউড সিনেমা দেখে ব্যাপারটা ভালই জানতাম। তবে জানা আর হাতেনাতে করা এক নয়। তখন বেলা বারোটা। হাইওয়েতে দাঁড়িয়ে আছি। কালেভদ্রে দু’-তিনটে গাড়ি যাচ্ছে। সহৃদয় কেউ যদি বা দাঁড়াচ্ছেন, চার জনের জায়গা হবে না বলে হনহনিয়ে চলে যাচ্ছেন। প্রায় দু’ঘণ্টা দাঁড়ানোর পরে একটি বড় গাড়িতে আমাদের ঠাঁই হল।

চালক ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে রাজি হলেন। আরও ৪০০ কিলোমিটার পেরোলে গন্তব্য। আমার দেশের উত্তর-পূর্বের প্রত্যন্ত গ্রামের মতো এখানকার রাস্তা। মানুষ খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। একটা রেস্তরাঁ থেকে খাবার কিনে ডিকিতে রাখতে গিয়ে বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। কুঠার, আরও নানা যন্ত্রপাতিতে ভর্তি ডিকি। হলিউড ভরসা দেয়, ভয়ও দেখায়। লোকটার কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নেই তো? আমি চালকের পাশের সিটে। বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করলাম। তবে ক্লাইম্যাক্সে যবনিকা পতন! বিকেল গড়াতে গড়াতে যথাস্থানে চালক আমাদের পৌঁছে দিলেন।

LEAVE A REPLY

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে